প্রাকৃতিকভাবে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে মেনে চলুন ৮টি উপায়
ডা: মো: মাহবুবার রহমান
ভূমিকা
আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল খাদ্য ও জীবনযাপনের কারণে অনেকেই “ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ” সমস্যায় পড়ছেন। উচ্চ Hyperuricemia বা ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার ফলে শুধু গেঁটে-সালা নয় বরং কার্ডিওভাসকুলার ও কিডনি রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এখানে রয়েছে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসার দৃষ্টিতে কার্যকর আটটি উপায় যা আপনাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
১. নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেশন বজায় রাখুন
যখন আপনি যথেষ্ট পানি পান করবেন, তখন কিডনি বেশি কার্যকরভাবে ইউরিক অ্যাসিড বের করতে পারে। আধুনিক গবেষণা বলছে, ডিহাইড্রেশন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় এবং গেঁটে আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। আয়ুর্বেদেও বলা হয়েছে ‘জলের চলাচল’ তথা শরীরের তরল-চলাচল ঠিক রাখলে দোষ (অশুদ্ধতা) কম হয়। নিয়মিত দিনে কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করা উচিত।
২. কম পিউরিনযুক্ত খাবার নির্বাচন করুন
পিউরিন বিশ্লেষণে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। আধুনিক খাবে– মাংস বিশেষত লিভার, সীফুড, রেড মিট এসব এড়িয়ে চলুন। আয়ুর্বেদ মতে, অতিরিক্ত ‘আমলা’ ও ‘রক্তবৃদ্ধি’কারী খাবার কম খেলে আৰোগ্য হয়। পরিবর্তে চিনি কম, শস্য-শাকনী বেশি খেতে হবে।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ওজন বাড়লে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি উভয়ই হয়। একটি রিভিউ বলছে ওজন হ্রাস করলে ইউরিক অ্যাসিড কম হয়। :contentReference[oaicite:4]{index=4} আয়ুর্বেদও বলছে অতিরিক্ত স্থূলতা দোষবৃদ্ধিকর, তাই সক্রিয় জীবনযাপন জরুরি। প্রতিদিন হালকা হাঁটা, যোগ বা সহনীয় ব্যায়াম ভালো।
৪. ফল-শাকনিতে ভরপুর একটা খাদ্যাভ্যাস গঠন করুন
শাকসবজি, ফল, সুষম শস্য– এসব খাবার ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। যেমন– দুধ ফ্যাট কমদেয়া yoghurt ও বাদাম-মুড়ি ভালো। আয়ুর্বেদ মতে, ‘পিত্তপ্রবণ’ ব্যক্তিদের জন্য শীতল ও সুষম খাবার বিশেষভাবে উপকারী।
৫. আয়ুর্বেদিক হার্ব ও আধুনিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার করুন
আয়ুর্বেদে যেমন বলেন– Punarnava, Gokshura, Tarakka (Alfalfa) ইত্যাদি কিডনি ও মূত্রনালীর কার্যকারিতা বাড়ায়। আধুনিক গবেষণা বলছে অনেক প্রাকৃতিক যৌগ যেমন ফ্ল্যাভনয়েড ও স্যাপোনিন ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কার্যকর। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করুন।
৬. অ্যালকোহল ও শর্করা যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন
অ্যালকোহল বিশেষ করে বিয়ার ও মদ শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়। এছাড়া শর্করা যুক্ত সোডা বা চিনি যুক্ত জুসও ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি করতে পারে। তাই এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আয়ুর্বেদেও ‘মদ্যপান ও মিষ্টান্ন’ অত্যধিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত।
৭. নিয়মিত ঘুম, মানসিক স্থিতি ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
স্ট্রেস, অনিয়মিত ঘুম ও হাইপারটেনশন ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আধুনিক রিভিউ বলছে স্ট্রেস ইউরিক অ্যাসিড সাময়িক বাড়াতে পারে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, নিয়মিত ধ্যান, শুদ্ধ প্রাণায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম দোষহ্রাসে কার্যকর।
৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদিও এই উপায়গুলো প্রাকৃতিকভাবে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, তবে নিয়মিত ব্লাড টেস্ট (যেমন সেরাম ইউরিক অ্যাসিড) ও কিডনি-লিভার কার্যকারিতা পরীক্ষা জরুরি। আধুনিক মেডিসিন মতে, শুধুই খাদ্য ও জীবনযাপন পরিবর্তন দিয়ে সব ক্ষেত্রেই সফল হওয়া যায় না। আয়ুর্বেদেও বলেছেন, ব্যক্তি অনুযায়ী উপচার ভিন্ন হতে পারে — তাই প্ৰফেশনাল পরামর্শ নিন।
উপসংহার
“ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ” হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসা একসঙ্গে মিলিয়ে উপায়গুলো অনুসরণ করলে আপনি সুস্থ থাকতে পারেন। আজ থেকে প্রতিদিন এক-একটি অভ্যাস শুরু করুন, ফলাফল ধীরে ধীরে আসবে। নিজের শরীরের সংকেত শুনুন, প্রয়োজনে ডাক্তার ও আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন